কপ৩১ সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি

সাতক্ষীরায় কপ৩১ সামনে রেখে জলবায়ু পদযাত্রা ও জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে কর্মসূচি।

 

জালালপুর নিউজ ২৪ | সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

কপ৩১ সামনে রেখে সাতক্ষীরায় জলবায়ু পদযাত্রা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি

সত্যের পথে, মানুষের পাশে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিতে জলবায়ু পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-কে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও পক্ষগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বক্তারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম যৌথভাবে এ পদযাত্রার আয়োজন করে। সাতক্ষীরা শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি

পদযাত্রার আগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে তুলনামূলকভাবে কম ভূমিকা রেখেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশ ও পক্ষগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। তাঁদের বক্তব্যে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং জলবায়ু ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

জলবায়ু পরিবর্তনে উপকূলের সংকট

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি, জীবিকা এবং সুপেয় পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। জীবিকার প্রয়োজনে তাঁদের কেউ কেউ অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন, জীবিকার সুযোগ এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এই নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে এসব খাতে কত অর্থ প্রয়োজন বা কত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার কোনো যাচাইকৃত পরিসংখ্যান প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

সমাবেশে যাঁরা বক্তব্য দেন

এতে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, গ্রীন কোয়ালিশনের উপদেষ্টা মাধব চন্দ্র দত্ত, জেলা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সদস্যসচিব শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম এবং শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকারসহ অন্যরা।

কর্মসূচিতে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি, অর্থ বরাদ্দ বা নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত বা সাফল্যের দাবি করা সমীচীন হবে না।

জালালপুর নিউজ ২৪
সত্যের পথে, মানুষের পাশে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ