সুন্দরবন রক্ষায় বড় পদক্ষেপ: ২৪টি অবৈধ রিসোর্ট ও কটেজ বন্ধের আলটিমেটাম

 

সুন্দরবন রক্ষায় বড় পদক্ষেপ: ২৪টি অবৈধ রিসোর্ট ও কটেজ বন্ধের আলটিমেটাম

ডেস্ক রিপোর্ট:
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা তিন জেলার ২৪টি রিসোর্ট ও ইকো কটেজ সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব অবৈধ স্থাপনা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের এই নোটিশ পাঠানো হয়।
এক নজরে বন্ধের তালিকায় থাকা ২৪ রিসোর্ট:
সুন্দরবনের আশেপাশের তিন জেলায় অবস্থিত এসব কটেজের অবস্থান:
  • খুলনা জেলা: ১৮টি কটেজ (যার মধ্যে ৩টি শুধু সাইনবোর্ড সর্বস্ব)
  • সাতক্ষীরা জেলা: ৪টি কটেজ
  • বাগেরহাট জেলা: ২টি কটেজ
বন্ধের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য কটেজগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইরাবতী, বনবিবি, জঙ্গলবাড়ী, অরণ্যছায়া, বনলতা ইকো কটেজ, অরণ্যবাড়ী, মায়াবন, গহন, কেওড়াবন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, সুন্দর ইত্যাদি।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুন্দরবনের চারপাশের এলাকা 'প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা' (ECA) হিসেবে ঘোষিত। আইন অনুযায়ী এই সীমানার মধ্যে পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো স্থাপনা তৈরি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এসব রিসোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। পর্যটকদের কোলাহল, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর ফলে বনের বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছিল। এর আগে নোটিশ দিয়ে সতর্ক করা হলেও মালিকপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
নির্দেশ অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা:
পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ এবং স্থাপনা সরিয়ে না নিলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
  • অবৈধ রিসোর্টগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
  • ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
  • বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
সুন্দরবনের সুরক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ও সচেতন মহল।
জালালপুর নিউজ ২৪;

মন্তব্যসমূহ